গণভোটের ফল উপেক্ষা করলে পরিণতি ভালো হবে না: ডাকসু ভিপি


 



গণভোটে অংশ নেওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায় উপেক্ষা না করার জন্য সরকারকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

পোস্টে সাদিক কায়েম উল্লেখ করেন, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ার পরও সরকার সেই রায় অগ্রাহ্য করার চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, এটি জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রহসন ও প্রতারণা। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বিভিন্ন উপায়ে গণভোটের ফলাফলকে দুর্বল করতে চাইছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য উদ্বেগজনক।

ডাকসু ভিপি স্পষ্টভাবে দাবি জানান, গণভোট অধ্যাদেশসহ গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, বিচারক নিয়োগ এবং সচিবালয় সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলো দ্রুত এবং কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই সংসদে পাস করতে হবে। তিনি মনে করেন, এসব বিষয়ে দেরি করা মানে জনগণের প্রত্যাশাকে অস্বীকার করা।

সরকারের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের আত্মত্যাগের ভিত্তিতে গঠিত সরকারের উচিত তাদের আকাঙ্ক্ষা ও রায়কে সম্মান জানানো। অন্যথায় জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে স্বৈরাচারী ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হবে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

এদিকে, একই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, যে অধ্যাদেশের আওতায় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেটির কার্যকারিতা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তাই এটিকে বিল আকারে সংসদে পাস করার প্রয়োজন নেই। রোববার রাতে সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী আরও জানান, বিশেষ কমিটির বৈঠকে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু অপরিবর্তিত অবস্থায় পাস হবে, আর কিছু সংশোধন করে বিল হিসেবে আনা হবে। আগামী ২ এপ্রিল এ সংক্রান্ত কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url