গণভোট না মানলে ‘মোনাফেক’—কঠোর হুঁশিয়ারি শিশির মনিরের
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেছেন, দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে তাদের মতামত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। তার দাবি, প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছেন, যেখানে বিএনপি তুলনামূলক কম সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। এ অবস্থায় গণভোটের ফলাফল অস্বীকার করা হলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি যারা গণভোট মানতে অস্বীকৃতি জানাবে, তাদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি।
রোববার (৫ এপ্রিল) বগুড়ায় ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিশির মনির। ‘জনরায় উপেক্ষা নয়—গণভোট বাস্তবায়নে সরকারের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর নেতৃত্বের অভাবে দেশ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের পথে এগোতে পারেনি। বিভিন্ন সময়ে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হলেও তা জনগণের জন্য স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি। তবে সাম্প্রতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন।
সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা যাচ্ছে এবং অদৃশ্য কোনো প্রভাব তাদের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে বলে মনে হচ্ছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে না পারলে সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
শিশির মনির আরও বলেন, গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হলে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে। ইতোমধ্যে রাজধানীতে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, তা বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে যারা বিদ্রূপ করছেন, তাদের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—যদি এটি অপ্রয়োজনীয় হয়, তবে গণভোট আয়োজন করা হলো কেন। সব মিলিয়ে গণভোট ইস্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
