গণভোট বিরোধিতা মানেই ৭০% জনগণকে অসম্মান: ড. মাসুদ
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, গণভোটের বিরোধিতা করা মানে দেশের অধিকাংশ মানুষের মতামতকে অগ্রাহ্য করা। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনগণের বড় একটি অংশ গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তাই এই দাবিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তবে দেশে আবারও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্যাতন, গুম ও মামলার রাজনীতি জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। গণভোট সেই ক্ষোভের একটি গণতান্ত্রিক প্রতিফলন হিসেবে সামনে এসেছে। এটি বাস্তবায়ন না হলে অতীতের দুঃসময়ের পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষায়, জনগণের ইচ্ছাকে অস্বীকার করা হলে শুধু নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চল নয়, বরং সারা দেশ থেকেই প্রতিবাদ গড়ে উঠবে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মাসুদ বলেন, তিনি বহু বছর কারাভোগ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি একাধিকবার তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার এবং গুমের শিকার হতে হয়েছে। বিভিন্ন চাপ ও প্রলোভন সত্ত্বেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি বলে দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান যদি সত্যিকার অর্থে সবার অধিকার নিশ্চিত করত, তাহলে এত অন্যায় ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটত না। অতীতে সংবিধান নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, তা আজও প্রাসঙ্গিক। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে তিনি বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে সম্মান জানাতে হলে গণভোটের মতো প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আবারও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
