‘জুলাই সনদ’ ইস্যুতে টানটান উত্তেজনা, উত্তপ্ত হতে পারে সংসদ
মুলতবি শেষে আবারও শুরু হচ্ছে জাতীয় সংসদের অধিবেশন, যা রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হবে। দিনের নির্ধারিত কার্যসূচিতে প্রবাসী কল্যাণ, খাদ্য, শ্রম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর পর্বের পাশাপাশি জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশ নিয়ে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে নিয়মিত কার্যক্রমের বাইরে আজকের অধিবেশনে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে বহুল আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়টি।
গত ১ এপ্রিল নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ ধারা অনুযায়ী এ বিষয়ে একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি তার বক্তব্যে দাবি করেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও রাজনৈতিক সংগ্রামের পর এই সনদ অর্জিত হয়েছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল। এতে সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইনি সংস্কারের সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্পিকার প্রস্তাবটিকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় নিয়ে কার্যপ্রণালি বিধির ৬৫(২) অনুযায়ী আলোচনার অনুমতি দিয়েছেন। দিনের কার্যসূচির শেষাংশে এ বিষয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে অধিবেশনের শেষ ভাগে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে ৩০ মার্চ একই ইস্যুতে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালও একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন, যদিও সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। এতে করে বিষয়টি নিয়ে সংসদে আগ থেকেই বিতর্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদীয় কমিটি ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ অনুমোদন না দেওয়ার সুপারিশ করেছে। সব মিলিয়ে ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে মতপার্থক্য এবং অধ্যাদেশ ইস্যুতে মতবিরোধের কারণে আজকের সংসদ অধিবেশন বেশ উত্তপ্ত ও নাটকীয় হয়ে উঠতে পারে।
