জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামার আহ্বান, কবে নামছে রাজপথে?


 



জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে জনগণের প্রত্যাশিত প্রতিফলন না হওয়ায় এখন আন্দোলনের পথই সামনে রয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ নিয়ে বিরোধীদলীয় নোটিশের ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে স্পিকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় তিনি সংবাদ সম্মেলনে এ বক্তব্য দেন।

তিনি জানান, বিরোধীদল সংসদের ভেতরেই সমাধান চেয়েছিল এবং জনগণের রায়কে যথাযথ সম্মান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু স্পিকার ও সরকারি দল সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। ফলে জনগণের মতামত উপেক্ষিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণেই তারা ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি আরও বলেন, অতীতের তিনটি গণভোটে জনগণের রায় যথাযথভাবে বিবেচিত হয়েছিল। তবে এবার ব্যতিক্রম ঘটেছে, যেখানে সরকার ও বিরোধীদল উভয়ের মধ্যে ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও তা কার্যকর হয়নি। এতে জনগণের আকাঙ্ক্ষা সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা স্পষ্ট করে বলেন, সংসদ থেকে তারা সরে দাঁড়াননি; বরং প্রতিবাদ জানাতে সাময়িকভাবে ওয়াকআউট করেছেন। জনগণের অধিকার আদায়ে তারা সংসদের ভেতরে ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই সক্রিয় থাকবেন। তিনি জানান, ১১ দলীয় জোট শিগগিরই বৈঠকে বসে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো দলীয় স্বার্থে নয়; বরং এটি জনগণের রায় প্রতিষ্ঠা এবং দেশের রাজনৈতিক কাঠামো ও সংবিধান সংস্কারের স্বার্থে পরিচালিত হবে।

এর আগে সংসদ অধিবেশনে আলোচনার পর স্পিকারের প্রতি অসন্তোষ জানিয়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। স্পিকার তাদের এ সিদ্ধান্তের অধিকার স্বীকার করে জানান, বিষয়টি মুলতবি প্রস্তাব হিসেবে আলোচনায় আসবে, যেখানে তারা উত্তর পেতে পারেন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url